দাম বাড়ায় জ্বালানি কর কমানোর সিদ্ধান্ত ৩৯ দেশের

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় একের পর এক দেশ জ্বালানি কর কমানোর পথে হাঁটছে।

নতুন তথ্য বলছে, গত এক মাসে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দেশের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩৯-এ দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বারবার সতর্ক করলেও অনেক দেশ আর্থিক শৃঙ্খলার বিষয়টি উপেক্ষা করছে। কারণ সংস্থাটির মতে, কর কমালে সরকারি অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। খবর এফটি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলো এ প্রবণতায় সবচেয়ে এগিয়ে। ৩৯টি দেশের মধ্যে ১৯টিই ইউরোপের। এসব দেশ মূলত তেল ও গ্যাসের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে কর কমাচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ সহায়তা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে দেয়া হচ্ছে না।

আইএমএফ বলছে, অনেক দেশের সরকারি ঋণ আগে থেকেই বেশি। এমন অবস্থায় অতিরিক্ত ব্যয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটির মতে, সহায়তা দিতে হলে তা হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক। নইলে সরকারি অর্থনীতি আরো চাপে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পরই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। কারণ বিশ্বে সমুদ্রপথে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সরকার ভোক্তাদের চাপ কমাতে করছাড় ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সবসময় কার্যকর হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং প্রকৃত দরিদ্র ভোক্তারা তেমন সুবিধা পান না।

ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুগেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলো এরই মধ্যে প্রায় ৯৫০ কোটি ইউরো ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যয় এমন পদক্ষেপে, যার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যগোষ্ঠী নেই, যেমন সাধারণভাবে ভ্যাট বা আবগারি শুল্ক কমানো।

দেশভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, জার্মানি প্রায় ১৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে জ্বালানি কর কমিয়েছে। স্পেন ব্যয় করছে প্রায় ৩৫০ কোটি ইউরো। ইতালি সাময়িকভাবে জ্বালানি কর ২০ শতাংশ কমিয়েছে, যার খরচ ৪৫ দিনে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো। তবে এ সুবিধা আরো বাড়ানো হবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

কিছু দেশ আবার জ্বালানির দামে সীমা নির্ধারণ বা বিক্রেতাদের মুনাফায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে দাম আবারো বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে বিদ্যুতের ওপর কম কর আরোপ এবং বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও হিট পাম্প ব্যবহারে উৎসাহ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে বাস্তবে অনেক দেশ এখনো স্বল্পমেয়াদি কর ছাড়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব দেশ একসঙ্গে কর কমালে এর সুফল কমে যায়। বরং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি দাম আরো বাড়তে পারে এবং তেল রফতানিকারক দেশগুলো লাভবান হয়।

আরও